Zahurul Haque Hospital · 7/29/2026
অ্যাজমা সারাজীবনের রোগ হলেও সঠিক চিকিৎসায় প্রায় সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব। সমস্যার বড় অংশই হয় ভুল ইনহেলার ব্যবহারে এবং প্রিভেন্টার নিয়মিত না নেওয়ায়।
রোগ নির্ণয় কীভাবে হয়
বারবার শ্বাসকষ্ট, বুকে শোঁ শোঁ শব্দ, রাতে বা ভোরে কাশি — এই ধরন দেখে সন্দেহ করা হয়। নিশ্চিত হতে স্পাইরোমেট্রি (ফুসফুসের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা) ও পিক ফ্লো মাপা হয়, প্রয়োজনে অ্যালার্জি পরীক্ষা।
ধাপে ধাপে চিকিৎসা
প্রথম ধাপ: প্রয়োজনমতো রিলিভার ইনহেলার (সালবিউটামল)।
দ্বিতীয় ধাপ: প্রতিদিন প্রিভেন্টার ইনহেলার (ইনহেলড স্টেরয়েড) — এটিই আসল চিকিৎসা।
তৃতীয় ধাপ: প্রয়োজনে লং-অ্যাক্টিং ওষুধ যোগ করা হয়।
সপ্তাহে দুইবারের বেশি রিলিভার লাগলে বুঝতে হবে রোগ নিয়ন্ত্রণে নেই — ডোজ পুনর্বিবেচনা দরকার।
রিলিভার বনাম প্রিভেন্টার
রিলিভার তাৎক্ষণিক আরাম দেয় কিন্তু প্রদাহ কমায় না। প্রিভেন্টার প্রতিদিন নিতে হয়, ভালো লাগলেও বন্ধ করা যাবে না। ইনহেলার আসক্তি তৈরি করে না — এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা।
ইনহেলার ও স্পেসার সঠিকভাবে ব্যবহারের নিয়ম
১. ইনহেলার ঝাঁকিয়ে স্পেসারে লাগান।
২. শ্বাস ছেড়ে মুখে ভালোভাবে চেপে ধরুন।
৩. একবার চাপ দিয়ে ধীরে গভীর শ্বাস নিন।
৪. ১০ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখুন।
৫. স্টেরয়েড ইনহেলারের পর অবশ্যই কুলকুচি করুন।
ঘরের ট্রিগার নিয়ন্ত্রণ
ধুলা ও ধুলোবালির মাইট, মশার কয়েল, রান্নার ধোঁয়া, ইটভাটা ও যানবাহনের ধোঁয়া, শীতের ঠান্ডা বাতাস, ফুলের রেণু ও পোষা প্রাণীর লোম — এগুলো এড়িয়ে চলুন। বিছানার চাদর গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকান।
শিশুদের অ্যাজমা
শিশুদের জন্য মাস্কসহ স্পেসার ব্যবহার করুন, ডোজ চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী। স্কুলে শিক্ষককে জানিয়ে রাখুন এবং একটি লিখিত অ্যাকশন প্ল্যান দিন।
জরুরি: এখনই হাসপাতালে যান যদি
রিলিভার নেওয়ার পরও কয়েক মিনিটে আরাম না হয়, এক নিঃশ্বাসে পুরো বাক্য বলতে না পারেন, ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে যায়, অথবা বুক ভেতরে দেবে যায় (বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে)।
জহুরুল হক হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে আপনার নিজস্ব অ্যাজমা অ্যাকশন প্ল্যান নিন।