ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিপদ চিহ্ন: যা অবহেলা করা যাবে না

এডিস মশার প্রজনন ঠেকানোর ঘরোয়া চেকলিস্ট, জ্বরের কোন দিনে কোন পরীক্ষা, এবং কোন লক্ষণ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যেতে হবে।

Zahurul Haque Hospital · 7/29/2026

পেটে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত বা নেতিয়ে পড়া দেখলে দেরি না করে জরুরি বিভাগে আসুন।

জরুরি বিভাগ — ২৪/৭ সেবা
বর্ষা এলেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ে। ডেঙ্গু ঠেকানোর একমাত্র কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার জন্ম বন্ধ করা — আর আক্রান্ত হলে বিপদ চিহ্নগুলো সময়মতো চেনা। ঘরের কোথায় এডিস মশা জন্মায় এডিস মশা জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। সপ্তাহে অন্তত একদিন এই জায়গাগুলো দেখুন ও পানি ফেলে দিন: এসি ও ফ্রিজের ট্রে, ফুলের টব ও নিচের প্লেট, ছাদের ট্যাংক ও ড্রাম, পুরনো টায়ার, রঙের কৌটা ও ডাবের খোসা, বাথরুমের বালতি, নির্মাণাধীন ভবনে জমা পানি। প্রতিদিনের প্রতিরোধ অভ্যাস সপ্তাহে একদিন জমা পানি ফেলে পাত্র শুকিয়ে নিন। জানালায় নেট লাগান, দিনের বেলাতেও মশারি বা রেপেলেন্ট ব্যবহার করুন — এডিস মশা মূলত দিনে কামড়ায়, বিশেষ করে সকাল ও বিকেলে। শিশুদের ফুলহাতা জামা পরান। ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ হঠাৎ তীব্র জ্বর, চোখের পেছনে ব্যথা, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীর ও গিঁটে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে লালচে র‌্যাশ। টাইফয়েড বা সাধারণ ফ্লুর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না — জ্বর হলে পরীক্ষা করান। কোন দিনে কোন পরীক্ষা জ্বরের ১ম–৫ম দিন: NS1 অ্যান্টিজেন পরীক্ষা। ৫ম দিনের পর: IgM/IgG অ্যান্টিবডি পরীক্ষা। পুরো সময় জুড়ে: প্রতিদিন বা একদিন পরপর CBC — বিশেষ করে প্লাটিলেট ও হেমাটোক্রিট দেখার জন্য। বিপদ চিহ্ন: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, দাঁতের মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত, কালো পায়খানা, অস্থিরতা বা ঝিমুনি, হাত-পা ঠান্ডা ও ঘামে ভেজা, প্রস্রাব কমে যাওয়া — এগুলো প্লাজমা লিকেজের লক্ষণ, দেরি করা যাবে না। বাড়িতে সেবা প্রচুর তরল — পানি, ডাবের পানি, স্যালাইন, স্যুপ। জ্বরের জন্য শুধু প্যারাসিটামল। অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা অন্য NSAID একেবারেই নয়, এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। পূর্ণ বিশ্রাম নিন এবং জ্বর নামার পরের ২৪–৪৮ ঘণ্টা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ — এই সময়ে বিপদ চিহ্নের দিকে বিশেষ নজর রাখুন। জহুরুল হক হাসপাতালের ল্যাবে একই দিনে NS1 ও CBC পরীক্ষা করানো যায়।

Related health tips